যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব ভাতার জন্য নতুন আবেদনের সংখ্যা গত সপ্তাহে অপ্রত্যাশিতভাবে কমেছে। তবে এর পরেও দেশটির শ্রমবাজার এখনো এক ধরনের স্থবিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা। বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘লো-হায়ার, লো-ফায়ার’ বা কম নিয়োগ ও কম ছাঁটাইয়ের অবস্থা হিসেবে অভিহিত করেছেন তারা। খবর রয়টার্স।
মার্কিন শ্রম মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটির তথ্য অনুযায়ী, ১০ জানুয়ারি শেষ হওয়া সপ্তাহে বেকারত্ব ভাতার জন্য নতুন আবেদনের সংখ্যা ৯ হাজার কমে ১ লাখ ৯৮ হাজারে দাঁড়িয়েছে। রয়টার্সের এক জরিপে অর্থনীতিবিদরা ধারণা করেছিলেন যে আবেদনের সংখ্যা ২ লাখ ১৫ হাজার হতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, আবেদনের এ সংখ্যা কিছুটা কম মনে হতে পারে। সাধারণত বছরের শুরুতে বা ছুটির মৌসুমে কর্মসংস্থানের তথ্যে এক ধরনের অসামঞ্জস্য থাকে। সরকারিভাবে এসব অসামঞ্জস্য সমন্বয় করে প্রকৃত তথ্য বের করার যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, তাতে কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। কারিগরি এ সীমাবদ্ধতার কারণেই আবেদনের সংখ্যাটি বাস্তবে যতটা হওয়ার কথা, তার চেয়ে কম দেখাচ্ছে।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের লিড ইউএস ইকোনমিস্ট ন্যান্সি ভ্যানডেন হাউটেন বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহের বেকারত্ব ভাতার আবেদনের পরিসংখ্যানে কিছুটা জটিলতা থাকলেও শ্রমবাজারের অবস্থা অন্তত স্থিতিশীল বলে মনে হচ্ছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর বাণিজ্য ও অভিবাসননীতির প্রভাবে একদিকে যেমন চাকরির বাজারে কর্মী সরবরাহ কমেছে, তেমনি নতুন কর্মী নিয়োগের চাহিদাও হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বড় বিনিয়োগের ফলে অনেক কোম্পানি নতুন করে কর্মী নিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে। এতে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান খুঁজে পাওয়া এখন আগের চেয়ে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) ‘বেজ বুক’ প্রতিবেদনেও একই ধরনের স্থবিরতার চিত্র উঠে এসেছে। জানুয়ারির শুরুর দিকের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের হার প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন নতুন কর্মী নিয়োগের বদলে খণ্ডকালীন কর্মীর সংখ্যা বাড়াচ্ছে। ফেড জানিয়েছে, অনিশ্চিত সময়ে নিজেদের কার্যক্রমকে নমনীয় রাখতেই ব্যবসায়ীরা এ পথ বেছে নিচ্ছেন।
গত সপ্তাহের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৫ লাখ ৮৪ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এটি গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন কর্মসংস্থান। পিএনসি ফাইন্যান্সিয়ালের সিনিয়র অর্থনৈতিক উপদেষ্টা স্টুয়ার্ট হফম্যান বলেন, ‘২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) পর্যন্ত কভিড-১৯ মহামারী-পরবর্তী সময়ে চাকরি পাওয়া যতটা সহজ ছিল, বর্তমানে তা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।’
অর্থনীতিবিদদের ধারণা, শ্রমবাজারের এ নাজুক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ফেড ঋণের সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যদিও চলতি মাসে সুদহার ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের ঘরে অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা বেশি, তবে বছরজুড়ে পরিস্থিতির উন্নয়নে নীতিগত পরিবর্তনের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।